Chamber News
News published in media related to CCCI: Today’s CCCI News

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে উভয় দেশ লাভবান হবে, ডিসেম্বর ২০, ২০২০, Suprobhat

চট্টগ্রাম চেম্বারে ভারতীয় হাই কমিশনার

‘বন্দর ব্যবহারের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ এমনকি ভুটান, নেপালও উপকৃত হতে পারে’

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, বাংলাদেশ বৃহত্তর অর্থনীতি হিসেবে উদিত হচ্ছে। এ অঞ্চল ২৫০ কোটি মানুষের বাজার, চট্টগ্রাম যেখানে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ এমনকি ভুটান, নেপালও উপকৃত হতে পারে, এতে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই লাভবান হতে পারে।
তিনি গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালকমণ্ডলী, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
ভারতীয় হাই কমিশনার আরও বলেন- বাণিজ্য, সামুদ্রিক ও উৎপাদন খাত চট্টগ্রামে অগ্রগণ্য। প্রতিবেশীদের সাথে দৃঢ় সম্পর্কের উপর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। তাই সেবা, উৎপাদন ইত্যাদি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বন্ধুত্বকে টেকসই করতে হবে।
তিনি দীর্ঘমেয়াদির পাশাপাশি দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি সেক্টর যেমন লজিস্টিকস, বন্দর, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি ব্যবসায়ী নির্বাহীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি খাতে মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান। কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস ও এপিআই পার্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। চট্টগ্রামে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা, বে-টার্মিনালে অর্থায়নসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। তিনি সীমান্তে আইসিডি, ওয়্যারহাউস নির্মাণ, রেললাইন উন্নয়ন ও স্থলবন্দরের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বার পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, অঞ্জন শেখর দাশ, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিএসআরএম’র এমডি আমীর আলীহুসেইন, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা ও ডা. মুনাল মাহবুব, বেইস টেক্সটাইল এর ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার শাহাদাত (শোভন), গ্রিনগ্রেইন গ্রুপের এমডি শাকিল আহমেদ তানভীর, ক্যাপিটাল পেট্রোলিয়ামের এমডি রাশিখ মাহমুদ ও মার্কস বাংলাদেশের তানিম শাহরিয়ার।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি উভয় দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রদূত ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া সাগর ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে মালামাল পরিবহন, রেলপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থল বন্দরসমূহে জটিলতাসমূহ সহজীকরণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে পণ্য খালাসের গতি ত্বরান্বিত করা, ইলেক্ট্রনিক ডাটা বিনিময়ের মাধ্যমে স্থলবন্দরসমূহকে আরও বেশি ডিজিটালাইজ করা, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে সহায়তাকরণ, ভারত-বাংলাদেশ বার্ষিক বিজনেস কনফারেন্স আয়োজন, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে যৌথভাবে ল্যাবরেটরি বা টেস্টিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব করেন চেম্বার সভাপতি।
চেম্বার পরিচালক এস এম. আবু তৈয়ব দু’দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় উভয় দেশের পণ্য নিয়ে ‘ট্রেড শো’ আয়োজনের প্রস্তাব করেন।
বক্তারা স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় শেড নির্মাণ, উভয় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, সাফটা সার্টিফিকেট গ্রহণ, সার্টিফিকেট অব অরিজিন জটিলতা দূরীকরণ, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কর্তৃক এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি চালুকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন, বর্ডার ট্রেড বৃদ্ধিকরণ, এন্টি ডাম্পিং বাতিলকরণ, ট্যারিফ ও নন ট্যারিফ বাধা দূরীকরণ, যৌথভাবে নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও যৌথভাবে শিপ বিল্ডিং খাতের উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি, রাষ্ট্রদূতের পত্নী সংগীতা দোরাইস্বামী, দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি দীপ্তি আলংঘট, চেম্বার পরিচালক মো. আবদুল মান্নান সোহেল ও মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, অতিরিক্ত কাস্টম কমিশনার আবু নুর রশিদ আহমেদ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. সরোয়ার হোসেন, লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আহমেদ আলী, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র পরিচালক আলতাফ হোসেন ভূঁইয়া ও বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

মিরসরাই শিল্পনগরে ৩০ লাখ মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে কতটুকু প্রস্তুত চট্টগ্রামবাসী!সোমবার , ৩০ নভেম্বর,

বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের যে গতিধারা শুরু হয়েছিল, তা প্রবাহমান স্রোতের ন্যায় আরো বড় আকার নিয়ে অভীষ্টে পাড়ি দিচ্ছে। সড়ক, মহাসড়ক, উড়াল সড়ক, টানেল, রিংরোড, রেল, মেট্রোরেল, সড়ক ও রেল সেতু, শিল্পাঞ্চল, পানি শোধানাগার, কয়লা বিদ্যুৎ, গভীর সমুদ্র বন্দর, বে-টানেল, পর্যটন কেন্দ্র, শেখ কামাল আইটি ও ইকিউভেশন পার্ক ও শিক্ষা অবকাঠামো ইত্যাদি নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নের উৎসব চলছে পুরো বৃহত্তর চট্টগ্রামজুড়ে। কিন্তু এ উন্নয়ন কার্যক্রমে ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের আউটপুট গ্রহণ করতে চট্টগ্রামবাসী কতটুকু প্রস্তুত- তা এখন ভাববার বিষয়। 

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা দেশের উন্নয়ন ০০:০০, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা দেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আন্তরিক। কীভাবে চট্টগ্রামের আরও উন্নয়ন করা যায় তা নিয়ে সবার কাজ করা উচিত।

শনিবার সকালে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মিরসরাইয়ে শিল্পাঞ্চল হচ্ছে। মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি মেরিন ড্রাইভ তৈরির প্রস্তাব নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৈরি করা হয়েছে আউটার রিং রোড। 

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা দেশের উন্নয়ন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী November 29, 2020

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা দেশের উন্নয়ন এবং কীভাবে চট্টগ্রামের আরো উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে সবার কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন শীর্ষক আলোচনাসভায় এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক।

তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে শিল্পাঞ্চল হচ্ছে। মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি মেরিন ড্রাইভ তৈরির প্রস্তাব নেওয়া যেতে পারে।

‘PM sincere in development of Ctg’ Sunday, November 29, 2020

Development of Chattogram means development of the whole country.  Opportunities are being increased for the development of the port city. The Prime Minister is sincere in this regard.  Everyone should work on how to further develop the city.

This was stated by Local Government Rural Development and Cooperatives Minister Tajul Islam at a discussion on Chattogram's Development and Industrialization at the World Trade Center in the city on Saturday morning. 

The Minister added Mirsarai is becoming an industrial zone. A Marine Drive from Mirsarai to Cox's Bazar could be proposed.  There are also plans to set up a bay terminal in Chattogram. An outer Ring Road has also been constructed.  

Haphazard work hurts Ctg development-- Chamber 29 November, 2020, 12:26 am

The Chattogram Chamber president proposed forming a cell through public and private initiatives to ensure coordination among government agencies in implementation of the projects

Highlights:

  • Development projects sent to DPP without opinions of people, experts
  • Proposal to construct Marine Drive Road from Mirsarai to Cox's Bazar
  • Zila Parishad asked to set up truck, bus terminals outside city
  • Detailed feasibility study in 2021 to establish a port centred on Mirsarai Economic Zone
  • Proposal to develop satellite cities to solve housing problem in Chattogram city

Govt to ensure all facilities for Mirerswari economic zone November 29, 2020 00:00:00

CHATTOGRAM, Nov 28: LGRD Minister Tajul Islam said on Saturday, "Development of Chattogram means development of Bangladesh. So, the incumbent government is increasing the facilities to develop Chattogram. Prime Minister Sheikh Hasina is very cordial for the development of the port city. All should work together about development of Chattogram."

He was addressing a discussion organised by Chattogram Chamber of Commerce and Industry (CCCI) on Development and Industrialisation of Chattogram as the chief guest. The meeting was held at the Bangabandhu Hall of World Trade Centre (WTC) of the CCCI.

He said, "The government has many development plans for Bangabandhu Economic Zone at Mirerswari. Government will ensure gas, water and all other facilities for the Mirerswari economic zone in Chattogram."

He also said the government set a target to produce 85,000 MW of power by 2041.

PM sincere in development of Ctg: Tazul 29 November, 2020 12:00 AM

CHATTOGRAM: Local Government, Rural Development and Cooperatives Minister Tazul Islam on Saturday said Bangabandhu’s daughter Prime Minister Sheikh Hasina is sincere about the development of Chattogram, reports BSS.

“Everyone should work for further development of Chattogram. Development of Chattogram means the development of the whole country. The facilities for development of Chattogram are being increased,” he added.

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল এশিয়ার সেরা হবে : মন্ত্রী নয়া দিগন্ত অনলাইন ২৮ নভেম্বর ২০২০

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম বলেছেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল এশিয়ার সেরা অঞ্চল হবে।

চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। মিরসরাই ইকোনমিক জোন হবে এশিয়ার সেরা একটি জোন। অনেক দেশ এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এ জোনে পানি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য পানির সব উৎস যাচাই করা হবে।’

শনিবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নয়নের জন্য সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন

এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব সম্ভাবনা রয়েছে তারও উন্নতি হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিক ও অন্য সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনা করতে হবে এবং একই সঙ্গে উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারাদেশের উন্নয়ন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

1চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারাদেশের উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কিভাবে আরও পরিকল্পনা করা যায়, তা নিয়ে সকলের কাজ করা উচিত।' 

শনিবার নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে

সমন্বিত উন্নয়নের জন্য সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। এছাড়া চট্টগ্রামে শিল্পায়নের স্বার্থে টেকসই সড়ক নির্মাণ, বহদ্দারহাট থেকে ইপিজেড পর্যন্ত পর্যাপ্ত ফুটওভার নির্মাণ, কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথে ও নদীপথে যোগাযোগ উন্নয়ন, সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বা পিপিপির আওতায় জেটি নির্মাণ, মিরসরাইয়ে এসএমই খাতের জন্য আলাদা জোন তৈরি করা, চট্টগ্রাম মহানগর ও মহানগরের বাইরে প্রয়োজনীয় বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, রিং রোডের সঙ্গে ইপিজেডের সংযোগ সড়ক নির্মাণ, উন্নয়নের জোনভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, জাতীয় পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমন্বয় সেল গঠন করা, সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও ওয়াসার সম্মিলিতভাবে চৌচালা হয়ে রিং রোড সংযোগ সড়কের সমাধান, পাহাড়ি ছড়া ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। 

চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে গতকাল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থ্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিক ও অন্যান্য সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনা করতে হবে এবং একই সঙ্গে উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা গেছে যে হালদা নদী থেকে পানি নিয়ে মিরসরাই অঞ্চলে সরবরাহ করা হলে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বৃষ্টি ও কাপ্তাই হ্রদ থেকে নেমে আসা পানি সরাসরি সাগরে চলে যায়। এই পানি সংগ্রহ করে শিল্পায়নে ব্যবহার করা হলে তা মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ১২০ কোটি লিটার পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করা হবে।

সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। হালদা নদী থেকে পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে শিল্পের জন্য পানি সংরক্ষণ করা যায়, সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, মিরসরাই শিল্পনগর, সীতাকুণ্ড, ফেনী, নোয়াখালী শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি সন্দ্বীপেও ১৩ হাজার একরজুড়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যা পর্যায়ক্রমে লাকসাম-কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। মিরসরাই জোন থেকে ৩০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ বেজা বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামীতে ১০টি বন্দরের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বেজার মাধ্যমে ৩২টি সেবা একযোগে দেয়া হয়। হালদা, কর্ণফুলী ইত্যাদি নদী বাঁচানো, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একই সঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড একসঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সাপেক্ষে চট্টগ্রাম এশিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

তিনি এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জাপানের বিগ-বি ইনিশিয়েটিভের (বে অব বেঙ্গল গ্রোথ ট্রায়াঙ্গেল) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থাৎ আগামী ২০ বছরের একটি ভিশন প্ল্যান তৈরি করা এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল আলম দোভাষ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, চিটাগং চেম্বার পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), এসএম আবু তৈয়ব, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. শাহরিয়ার জাহান, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী (বাবুল), বিকেএমইএর সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম ও জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি আসবে হালদা থেকে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি সংকট কাটাতে হালদা নদী থেকে পানি সরবরাহের চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। এই উৎস থেকে পানি নেওয়া অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী বলেই এ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে লবণাক্ত পানির কারণে শিল্পায়ন ব্যাহত হচ্ছিল। তাই কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে স্বাদু পানি সংগ্রহের জন্য একটি স্টাডি করা হয়। সেই স্টাডিতে কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে পানি সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি আমরা। হালদা নদীর পানির মাত্র ১ শতাংশ আমরা নেব পরিবেশসম্মতভাবে এবং জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই।’

চট্টগ্রাম পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সমন্বয়হীনতার অভাব আছে। সমন্বিতভাবে সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগালে চট্টগ্রামের অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।’

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অবশ্যই সমন্বয় থাকতে হবে। তা না হলে দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে না। ’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম, চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য জাফর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মিরসরাই শিল্পনগরে ৩০ লাখ মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আন্তরিক। কিভাবে চট্টগ্রামের আরও উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে সকলের কাজ করা উচিত। দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিক ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ কাজে লাগাতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনা করে উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মিরসরাই শিল্পনগরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে মিরসরাই পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা হলে তা পর্যটনসহ লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, হালদা নদী থেকে পানি নিয়ে মিরসরাই অঞ্চলে সরবরাহ করা হলে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বৃষ্টি ও কাপ্তাই হ্রদ হতে নেমে আসা পানি সরাসরি সাগরে চলে যায়। এই পানি সংগ্রহ করে শিল্পায়নে ব্যবহার করা হলে তা মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে ১২০ কোটি লিটার পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। বিভিন্ন বিকল্প উৎস হতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হবে। এক্ষেত্রে হালদার পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে পানি সংগ্রহ করার কথা জানান মন্ত্রী।
চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে চট্টগ্রাম এশিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু এবং বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জাপানের বিগ-বি ইনিশিয়েটিভ (বে অব বেঙ্গল গ্রোথ ট্রায়াঙ্গেল)’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিধায় এর উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থাৎ আগামী ২০ বছরের একটি ভিশন প্ল্যান তৈরি করা এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করে কার্যকর বাস্তবায়ন দাবি করেন।
চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রামের অপার সম্ভাবনার প্রসঙ্গে বছরের পর বছর কিছু জটিলতা রয়েছে জানিয়ে তা সমাধানের উপর জোর দেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আন্তরিক ও সহায়ক ভূমিকা পালনের আহŸান জানান। তিনি চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অনতিবিলম্বে বে-টার্মিনাল নির্মাণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং, চট্টগ্রাম ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সুরক্ষা এবং কার্যক্ষেত্রের সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রকল্পগুলো যথাযথ তদারকির উপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম টানেল কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে। মিরসরাই শিল্পাঞ্চলসহ চট্টগ্রামের বাইরেও শিল্পের প্রসার ঘটছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে মাদারীপুর-ফরিদপুরসহ ঐ অঞ্চলে শিল্প সম্প্রসারণ হবে। কুমিরা নৌবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেরিন ড্রাইভকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। হালদা নদী থেকে পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে কিভাবে শিল্পের জন্য পানি সংরক্ষণ করা যায় সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি পবন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মিরসরাই শিল্পনগর, সীতাকুন্ড, ফেনী, নোয়াখালী শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি স›দ্বীপেও ১৩ হাজার একরজুড়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যা পর্যায়ক্রমে লাকসাম-কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। মিরসরাই জোন থেকে ৩০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ বেজা বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগামীতে ১০টি বন্দরের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বেজার মাধ্যমে ৩২টি সেবা একযোগে প্রদান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি হালদা, কর্ণফুলী ইত্যাদি নদী বাঁচানো, প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা এবং একই সাথে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ইত্যাদি কর্মকাÐ পরিচালনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম বন্দরের টেইলার, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ইত্যাদি পরিবহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি চট্টগ্রামের সাথে মিরসরাই, দোহাজারী রুটে আরও ট্রেন পরিচালনা করা, শিল্প কারখানায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ট্যারিফবিহীন অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা বিবেচনা, শেরশাহ কলোনি, হালিশহর কলোনিতে হাইরাইজ বিল্ডিং নির্মাণ করে আবাসন সমস্যা সমাধান, রেল ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়সাধন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল আলম দোভাষ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, চিটাগাং চেম্বার পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), এসএম আবু তৈয়ব, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. শাহরিয়ার জাহান, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ও সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী (বাবুল), বিকেএমইএ’র প্রাক্তন পরিচালক শওকত ওসমান, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম ও জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালক মো. জহুরুল আলম, মো. আবদুল মান্নান সোহেল, মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাকিফ আহমেদ সালাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহসহ সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ওয়াসার প্রস্তাবিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প ও হালদা নদী বিষয়ক তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

হালদার পরিবেশ অক্ষুণœ রেখে পানি সংগ্রহ করা হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সন্দ্বীপেও ১৩ হাজার একরজুড়ে শ

হালদা থেকেই পানি যাচ্ছে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে হালদা নদীর মোহরা পয়েন্ট থেকে দিনে ১৪ কোটি লিটার পানি নিলে হালদার জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে বলে পরিবেশবাদীরা বাধা দিয়ে আসছে। কিন্তু হালদার ক্ষতিসাধন না করেই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এম তাজুল ইসলাম।
তিনি গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা গেছে হালদা নদী থেকে পানি নিয়ে মিরসরাই অঞ্চলে সরবরাহ করা হলে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বৃষ্টি ও কাপ্তাই হ্রদ হতে নেমে আসা পানি সরাসরি সাগরে চলে যায়। এই পানি সংগ্রহ করে শিল্পায়নে ব্যবহার করা হলে তা মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে দিনে ১২০ কোটি লিটার পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিকল্প উৎস হতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হবে। তবে হালদার পরিবেশ অক্ষুণœ রেখে পানি সংগ্রহ করা হবে।
হালদা ইস্যুতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, হালদা নদী থেকে পরিবেশ অক্ষুণœ রেখে কিভাবে শিল্পের জন্য পানি সংরক্ষণ করা যায় সে অনুসারে কাজ করা হচ্ছে।

সমন্বয় করেই উন্নয়ন

সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রামের উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, উন্নয়নে চট্টগ্রাম পিছিয়ে নেই। তবে আমার মনে একটি কষ্ট আছে। সেটা হলো, আপনারা (সেবা সংস্থাগুলো) একসাথে কাজ করেন না। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত ও অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অ্যান্ড কমার্সসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে যেতে হবে।
চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মীরসরাই থেকে কঙবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। মীরসরাই ইকোনমিক জোনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জোন হবে এশিয়ার সেরা একটি জোন। অনেক দেশ এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এ জোনে পানি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য পানির সকল উৎস যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে সকল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হবে সেগুলো অবশ্যই সমন্বয় করে নিতে হবে। সমন্বয়হীনতার কারণে যেন একই কাজ বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে সারা দেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। কিভাবে চট্টগ্রামের আরও উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে সকলের কাজ করা উচিত। চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৈরি করা হয়েছে আউটার রিং রোড। চসিক প্রশাসক বেশ কিছু ভালো কাজ করেছেন, যা আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের উন্নয়ন করা সম্ভব।
তাজুল ইসলাম বলেন, মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোন ঘিরে অনেক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ইকোনমিক জোনে সব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেও সুপেয় পানির সমস্যা রয়ে গেছে। পানির সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হালদা থেকে পানি উত্তোলনের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, হালদা নদী থেকে পানি উত্তোলনের বিষয়টি বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে আলোচনা করে রিপোর্ট দিয়েছে, যে পয়েন্ট থেকে পানি উত্তোলন করা হবে তাতে নদীর কোনো সদস্যা হবে না, মৎস্য প্রজননে প্রভাব পড়বে না। বিশেষজ্ঞরা মাঠ পর্যায়ে সকলের সাথে কথা বলেছেন। প্রস্তাবিত মোহরা ফেজ-২ প্রকল্পের জন্য যে সীমিত পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হবে তাতে হালদা নদীতে মৎস্য প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখেই পানি উত্তোলন করা হবে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার মতো কাজ করা হবে না।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি এবং বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, বহদ্দারহাট থেকে ইপিজেড পর্যন্ত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সিটি কর্পোরেশন একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। তাতে আমরা সহযোগিতা করব। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে চট্টগ্রাম চেম্বার কোঅর্ডিশন করতে পারে। সবাইকে নিয়ে মাঝে মাঝে বসতে পারে। উন্নয়নের সুফল পাওয়ার জন্য ওয়াসার রাস্তা কাটাকাটি মেনে নিতে হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা তুলে দেওয়ার দবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে রিরশা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারছি না। এটা আস্তে আস্তে হবে।
তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে শ্রমিকদের দক্ষতার উন্নয়ন করতে হবে। দক্ষতার উন্নয়ন ব্যতীত শিল্প উন্নয়ন সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম নগরীতে যেসব রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো অবশ্যই টেকসই হতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে আর কোনো কিছুই নগরীতে হতে দেওয়া যাবে না।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।
সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, চট্টগ্রামসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম-কঙবাজার রেললাইনের কাজ চলছে। কঙবাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের কাজ চলছে। মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৩৫ হাজার একর জমির এই শিল্প নগরীতে ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। মাদারবাড়িতে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। সড়ক থেকে নৌপথের খবর অনেক কম। এই বিষয়ে কুমিরা নৌপথটির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য ২০০৯ সাল থেকে গুরুত্ব দিয়েছে। চট্টগ্রাম তার আগে কী ছিল আর এখন কী অবস্থায় আছে ভেবে দেখুন। চট্টগ্রাম অনেক পাল্টে গেছে। আরো উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, এখন মীরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনী ইকোনমিক জোনের কাজ চলছে। সন্দ্বীপেও ইকোনমিক জোন হবে। এই ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য একটি পোর্ট যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপানে ১০০টি পোর্ট রয়েছে। ভিয়েতনামে ৪০টি পোর্ট রয়েছে। চট্টগ্রাম পোর্টের পাশাপাশি আরো পোর্ট গড়ে তুলতে হবে। পোর্টের কথা বললেই আমরা চট্টগ্রামের মানুষ আবেগ আক্রান্ত হয়ে পড়ি। এখানে আবেগের কোনো স্থান নেই। চট্টগ্রাম বন্দরকে অবহেলা করে কোনো পোর্ট হবে না।
চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের জন্ম অন্য জেলায় হলেও উনার মন এই চট্টগ্রামে বাঁধা। আবাসিক এলাকার কারো ঘরবাড়িতে ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে না। ইন্ডাস্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় হতে হবে। এই নগরীর সকল উন্নয়ন অবকাঠামো সিটি কর্পোরেশনকে করতে হয়। কিন্তু মেয়রের হাত-পা বাঁধা। ঢাকার মেয়র প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদা। চট্টগ্রামের মেয়র এডিশনাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সব সেবা সংস্থার মিটিংয়ে বসার কথা রয়েছে। মিটিং আহ্বান করা হলে সিডিএ এবং ওয়াসার প্রধানরা আসলেও অন্যান্য সংস্থার প্রধানরা আসেন না। তারা একজন করে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দেন। চট্টগ্রামের প্রায় রাস্তা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির গাড়িগুলো (ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান) দখল করে থাকে।
চট্টগ্রামের আশেপাশের উপজেলাগুলোর সাথে ট্রেন যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি রেলমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বলেছি দোহাজারী-নাজিরহাট রুটে আরো ৪টি লোকাল ট্রেন দেওয়ার জন্য। ট্রেন যোগাযোগ বাড়ানো হলে সড়কের উপর চাপ কমবে। চট্টগ্রামের বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সাথে ফয়’স লেক থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত দীর্ঘ লেকগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তার দুই পাশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরিগুলোর দখলে চলে যাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার সময় এজন্য সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। চট্টগ্রাম নগরীতে আলাদা ট্রাক ও বাস ট্রার্মিনাল নেই। আলাদা ট্রাক এবং বাস ট্রার্মিনাল খুবই দরকার।
সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে হয়ে গেলে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে। ইপিজেড থেকে আউটার রিং রোডের কানেকশনটা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা আমরা করে দেব।
বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় সেল করা দরকার। তাহলে উন্নয়নটা ধারাবাহিকভাবে হবে এবং দ্রুত, সুষ্ঠুভাবে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় নিতে হবে। চট্টগ্রাম অনেক গুরুত্বপূর্র্ণ শহর। চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু চট্টগ্রামের নয়, এই উন্নয়ন সমগ্র দেশের।
জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার কাছে দৃশ্যমান যেটা মনে হয়েছে, সেটা হলো চট্টগ্রামের উন্নয়ন হচ্ছে ব্যাপকভাবে, কিন্তু সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয়টা দরকার। তাহলে জনদুর্ভোগ অনেক কম হবে। উন্নয়নও সহজ হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অ্যাডমিন) জাফর আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ৭০ ভাগ পণ্যের ৯৫ ভাগ যায় সড়ক পথে আর অবশিষ্ট ৫ ভাগ যায় ট্রেনে। এখন আমরা নদী পথে পণ্য পরিবহনকে উৎসাহিত করছি। এখন সীতাকুণ্ড এলাকায় কেউ প্রাইভেট জেটি করতে চাইলে আমরা অনুমোদন দেব।
মন্ত্রী কর্ণফুলী নদী নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কথা বললে তার জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ড্রেজিং প্রকল্প বন্ধ হয়নি। ড্রেজিং করতে গিয়ে গার্ভেজের সমস্যার কারণে সিস্টেমটা পরিবর্তন করা হয়েছে। আবার শুরু হবে। এখন আমরা লোকালি করছি। বড় পরিসরে আবার শুরু হবে। বে ট্রার্মিনালের স্টাডি চলছে। জুনে শেষ হবে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ২০২৫ সালে ২টি জেটি হবে।
ব্যবসায়ী নেতা এস এস আবু তৈয়ব বলেন, বহদ্দারহাট থেকে ইপিজেড পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা খুবই দরকার। এই এলাকায় ফুটওভার ব্রিজগুলো নির্মিত হলে দুর্ঘটনা কমবে। কমবে মৃত্যুর হারও।
জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে বরিশাল, ভোলা, খুলনার দূরত্ব নদী পথের চেয়ে অনেক বেশি। এই কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তাদের ঢাকা কিংবা অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের চেয়ে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। যার কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদেরকে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে।
সীতাকুণ্ড শিল্প এলাকার কুমিরা-সন্দ্বীপ ঘাটকে অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দর হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সহায়তা চান তিনি। তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরকে এই বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যে উক্ত ঘাটে লাইটার জাহাজ হতে পণ্য খালাস করতে পারবে এবং সমগ্র দেশে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য কম খরচে স্বল্প সময়ে নিরাপদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে পারবে। এতে করে চট্টগ্রামের জাহাজজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজজুল্লাহ, চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি ওমার হাজ্জাজ, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ অহীদ সিরাজ চৌধুরী, নাজমুল হক চৌধুরী শারুন, সৈয়দ মো. তানভীর, অধ্যাপক গোলাম কিবরীয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, বিজিএমই পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ ও মাহফুজুল হক শাহ। অনুষ্ঠানে ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যান ড. জাহাঙ্গীর আলম একটি এবং চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরীয়া হালদা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।